দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর রায়পুরার শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমন (২২) সাইপ্রাসে অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। পরে তার মরদেহ একটি জঙ্গলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শাহরিয়ার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের প্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন মাস আগে তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান এবং লারনাকা এলাকার ওরোক্লিনি অঞ্চলে বসবাস করতেন।
পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১১ জুন বিকেলে শাহরিয়ার তার মাকে জানান তিনি একটি কাজ পেয়েছেন এবং রাত থেকেই কাজ শুরু করবেন। ওইদিন রাত ৯টার দিকে তিনি কাজের স্থানে পৌঁছে অবস্থান জানিয়ে রায়হান নামে তার রুমমেটকে বার্তা পাঠান।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের মোবাইল নম্বর থেকে তার বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার দেহ ক্ষতবিক্ষত করা হবে।
পরদিন সকালে শাহরিয়ার আর বাসায় ফেরেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবার জানায়, অপহরণকারীরা কয়েকদিন ধরে মুক্তিপণ দাবি অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতাও হয়। পরে টাকা পাঠানোর আগমুহূর্তে পরিবার সন্দেহ হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুন সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি তারা জেনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে।
জে আই